মুহাম্মদ (ﷺ) ও যয়নব বিনতে জাহশ (রাঃ) বিয়ে নিয়ে অভিযোগের জবাব!
🖋Author:- Aminur Rashid
____________________________________________________________________________
.
আসসালামু আলাইকুম,,
সকল প্রশংসা আল্লাহর। সালাম ও দুরূদ নবী মুহাম্মদ (স:) এর উপর। যয়নব বিনতে জাহশ (রাঃ) কে বিয়ে বিষয়ে আলোকপাত করব।
.
.
◾আসুন শুরু করি,,,
.
সর্বপ্রথম বলব নবী মুহাম্মদ (স:) এর প্রত্যেকটি বিয়ের নির্ভরযোগ্য কারণ রয়েছে। [১] আর যয়নব (রাঃ) কে নিয়ে অভিযোগ করা হয় যে নবী পুত্রবধূকে বিয়ে করেছেন। প্রথম কথা হলো যয়নব (রঃ) পুত্রবধূ নয় বরং নবী মুহাম্মদদের ফুফাতো বোন। [২]
আর নবী মুহাম্মদ (সঃ) তখন যয়নব (রাঃ) কে বিয়ে করেছেন যখন যায়েদ অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ (স:) এর পোষ্যপুত্র যয়নব (রঃ) কে তালক দিয়েছেন। আর যয়নব (রঃ) রাজিও ছিলেন বিয়েতে।
.
◾এবার কথা আসে নবী মুহাম্মদ (সঃ) কেনো যয়নব (রাঃ) কে বিয়ে করলেন।
.
উপরের কথা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর ফুফাতো বোন অন্য দিকে আপন পুত্রবধূ নয় যা Science আমাদের বলে। তাই যয়নব (রঃ) কে বিয়ে করা অবৈধ নয় বরং বৈধ। কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সঃ) বিয়ে করেছে তার কারণ রয়েছে।
.
📝 সমাজে দুটি কুসংস্কার চালু ছিলো।
.
১) সে যুগে পোষ্যপুত্রকে নিজ পুত্র এবং তার স্ত্রীকে নিজ পুত্রবধু মনে করা হ’ত ও তার সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ মনে করা হ’ত।
২) ইহূদী ও নাছারাগণ ওযায়ের ও ঈসাকে আল্লাহর পুত্র গণ্য করত (তওবা ৯/৩০)। [৩]
.
◾কিন্তু দুইটিই ভুল প্রথম কুসংস্কার টা ভুল কারণ পোষ্যপুত্র কখনো নিজের পুত্র নিয়ে অর্থ জন্মগত ভাবে এটা আজকের Science ও আমাদের বলে। আর সেই পুত্রের স্ত্রীও তালাকের পর বিয়ে যায়েজ রয়েছে। দ্বিতীয় কুসংস্কার হলো সৃষ্টিকে স্রষ্টা মনে করা যা ভুল সৃষ্টি কখনো স্রষ্টা নয়।
.
.
📎 ১ নং কুসংস্কার
.
◾এই কুসংস্কার Scientific ভাবেও ভুল। কারণ পোষ্যপুত্র কখনো জন্মগত পুত্র নয়। আর তার তালক প্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করাও অবৈধ নয়।
.
◾এই কুসংস্কার দূর করার জন্যই যয়নব (রাঃ) কে বিয়ে করেছেন মুহাম্মদ (সঃ) তাই এখানে দোষের কিছু নেই কারণ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর ফুফাতো বোন ছিলো।
.
মামাতো বোন, ফুফাতো বোন, চাচাতো বোন বিয়ে করা যায়েজ আছে। অনেক হিন্দু এ নিয়ে সমলোচনা করে থাকে। কিন্তু তা ভুল নয় কারণ আপন বোন আর মামাতো বোন জেনেটিক ভাবে এক নয়। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মে ভাই বোনদের মধ্যেই অজাচার রয়েছে। [৪]
.
সুতরাং আমরা বুঝলাম নবী মুহাম্মদ (সঃ) যয়নব (রাঃ) কে বিয়ে করে প্রচলিত কুসংস্কার যা Scientific ভাবেও কুসংস্কার তা ভেঙ্গেছেন।
.
.
📎 ২ নং কুসংস্কার
.
◾ এই যে ঈসা (আ:) যিনি একজন নবী। এই নবীকে খ্রিষ্টান-ইহুদিরা ঈশ্বর বানিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি বাইবেল পড়ি সেখান থেকে সুস্পষ্ট যে যীশু ঈশ্বর নয় বরং একজন নবী। আমাদের বুঝতে হবে সৃষ্টি কখনো স্রষ্টা নয়। বাইবেলে এমন একটা ভার্স নেই যেখানে বলা হয়েছে যীশু ঈশ্বর কিংবা যীশু বলেছেন আমার উপাসনা কর।
.
যীশু কিভাবে ঈশ্বর!?
KJV বা কিং জেমস ভার্সন বাইবেলের পুস্তক সংখ্যা - ৬৬ টি অধ্যায় ১১৮৮ টি আর পদ সংখ্যা আছে ৩১১০১ টি এটা শুধু KJV বাইবেলের কথা বলছি বাইবেল তো আবার বহু ভাবে বিভিক্ত। [৫]
.
এই যে ৬৬ টি পুস্তক/১১৮৮ টি অধ্যায়/৩১১০১ টি পদ/ কিন্তু কোথায় যীশু খ্রিষ্ট নিজে বলেন নি "আমি ঈশ্বর বা আমার উপাসনা করো" এই বিষয়ে শত বাত চ্যলেঞ্জ করেছেন ডাঃ জাকির নায়েক হাফিজুল্লাহ ও আহমেদ দিদাত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কেউ প্রমাণ করতে পারে নি।
.
তাই খ্রিষ্টানদের কাছে প্রশ্ন "যীশু কেমন ঈশ্বর যে ৬৬ টি পুস্তককের একটি জায়গায়ও বলে নি আমি ঈশ্বর বা আমার উপাসনা করো" !?
.
তাই বলব সৃষ্টিকে কখনো স্রষ্টা বানাবেন না। আল্লাহ কুরআনে বহু জায়গায় বলেছে আল্লাহ হলেন ঈশ্বর আর তার ইবাদত করতে,,,
.
আল্লাহ বলেন,,,
.
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
💕 আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। [৬]
.
আর ওযায়েরকেও ইয়েমেনী দলীয় ইহুদিরা ঈশ্বরের সাথে তুলনা করতো এবং ঈশ্বরের পুত্র মানতো। [৭]
.
◾তাই আমাদের বুঝতে হবে স্রষ্টা আর সৃষ্টি কখনো এক নয়। সৃষ্টি কখনো স্রষ্টা হতে পারে না স্রষ্টা কখনো সৃষ্টি হতে পারে না। ঈসা (আ:) কখনো আল্লাহর পুত্র নয় এবং ওযায়েরও আল্লাহর পুত্র নয়। [ সূরা ইখলাস আয়াত ৩ ]
.
.
◾অনেকে তাবারি (রহঃ) এর ব্যাখ্যা দেখিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে নবীর মনে নাকি আগে থেকেই যয়নবকে বিয়ের ইচ্ছা ছিলো অর্থাৎ তালাকের আগেও। তাবারির এই মত গ্রহণযোগ্য নয় যা দূর্বল। [৮]
.
যয়নাব (রঃ) এর সাথে যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর বিবাহ হবে তা নবী মুহাম্মদ (সঃ) আগে থেকে জানতেন যা গোপন ছিলো আর আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিয়েছেন,,,
.
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ۖ فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
💕 আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে। [৯]
.
.
অনেকে বলেন নবী মুহাম্মদ (সঃ) নাকি হঠাৎ আসক্ত হয়েছেন যয়নব (রাঃ) এর প্রতি। যা মিথ্যা যদি তাই হতো নবী মুহাম্মদ (সঃ) যায়েদ এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করতেন না। আর যয়নব (রাঃ) ছিলো ফুফাতো বোন তার রূপ সম্পর্কে নবী মুহাম্মদ (সঃ) আগে থেকেই অবগত ছিলেন। তালাকের পরে বিয়ে হয়েছে কুসংস্কার দূর হয়েছে। [১০]
.
এই আয়াতে নবী মুহাম্মদ (সঃ) কি গোপন করেছেন তা আহসানুল বয়ান তাফসীরে সুন্দর ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
.
সংক্ষেপে তুলে ধরলাম...
"যায়েদ বার বার নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে এসে তালাকের কথা বলতেন নবী মুহাম্মদ (সঃ) কোন রকম বুঝ দিতেন। আর নবী মুহাম্মদ (সঃ) যেটা গোপন করেছেন সেটা হলো নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে আল্লাহ আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন যয়নব (রাঃ) এর সাথে বিয়ে হবে কুপ্রথা দূর করার জন্য।" [১১]
.
◾সুতরাং আশা করা যায় ইসলাম বিরোধী আর মিথ্যাচার করবে না।
.
নবী মুহাম্মদ (সঃ) ও যয়নব (রাঃ) এর বিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা সপ্তম আকাশের উপর থেকে। এটা নিয়ে যয়নব (রাঃ) গর্ব করতো। [১২]
.
◾যায়েদকে নিয়ে একটু আলোচনা করি।
অনেকে বলবেন পোষ্যপুত্র তো আপন পুত্রের মতন কিন্তু আসলে তা নয়। কিন্তু আদর যত্নে দিক দিয়ে যায়েদকে নবী মুহাম্মদ (সঃ) আপন পুত্র থেকেও বেশি করেছেন তাহলে শুনুন সেই কাহিনী,,,
.
.
"যায়েদের যখন আট বছর বয়স। তখন তার মা তাকে নিয়ে মামার বাড়ি যাচ্ছিলেন এমন সময় লুটেরাদের আক্রমণ হয়। শিশু যায়েদকে লুটেরার দল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আর তৎকালীন রীতি অনুযায়ী তার যায়েদকে দাস বানায়। আর যায়েদ পিতা-মাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। তার পরে খাদিজা (রাঃ) যায়েদকে ক্রয় করলেন। আর নবী তাকে নিজের পুত্রের সম্মান দিলেন। নবীর অনেক আদর যত্ন পেয়েছে যায়েদ নিজের আপন ছেলের মতন স্বযত্নে যায়েদকে বড় করেছে নবী মুহাম্মদ (সঃ) আর নবী মুহাম্মদ (সঃ) এতোই আদর করেছেন যে যখন পিতা মাতার খোঁজ মিলে তখন যায়েদ বলেছে 'আমি এই মহানের যে ব্যাক্তিত্ব ও গুনাবলী দেখেছি আমি তাকে কখনো ছাড়তে পারব না" - তাহলে বুঝুন কতটুকু আদর যত্ন করেছেন নবী মুহাম্মদ (সঃ) তখন নবী মুহাম্মদ (সঃ) যাদের হাত ধরে সকলকে বললেন 'যায়েদ শুধু মুক্তি নয় বরং সকলে সাক্ষী থাকো এই যায়েদ আমার পুত্র' আলহামদুলিল্লাহ" [১৩]
.
আমি বুঝি না যাদের কোন বিধান নেই যারা সমকামিতা সাপোর্ট করে। [১৪] তারা আবার বিবাহ নিয়ে এতো তর্ক করে কেনো বুঝি না।
আশা করি এরপরে আর সমস্যা থাকে না।
.
.
তথ্যসূত্রঃ
[১] https://uncovertrue.blogspot.com/2020/03/author-aminur-rashid.html
বিস্তারিত:- সীরাত রাসুলুল্লাহ (সঃ) আসাদুল্লাহ আল গালিব পৃষ্ঠা:- ৭৬৩-৭৭১
[২] সীরাত রাসুলুল্লাহ (সঃ) আসাদুল্লাহ আল গালিব পৃষ্ঠা:- ৭৬৩-৭৬৭
[৩] সীরাত রাসুলুল্লাহ (সঃ) আসাদুল্লাহ আল গালিব পৃষ্ঠা:- ৭৭০
[৪] ঋগ্বেদ দশম মন্ডল থেকে..
নিচের লিঙ্কে হিন্দু ধর্মের কলামে রেফারেন্স সহ বিস্তারিত রয়েছে।
লিঙ্ক:- https://uncovertrue.blogspot.com/2020/04/blog-post_84.html
[৫] Wikipedia /- Books of the Bible
[৬] সূরাঃ ত্বোয়া-হা, আয়াতঃ ১৪
[৭] G. D. Newby, A History Of The Jews Of Arabia, 1988, University Of South Carolina Press, p. 61
[৮] তাফসির ইবনে কাসির ১৫ নং খন্ড, পৃষ্ঠা:- ৮০৫
[৯] সূরাঃ আল আহযাব, আয়াতঃ ৩৭
[১০] সীরাতে ইবনে হিশাম (বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার) পৃষ্ঠা:- ৩৪১-৩৪২
[১১] তাফসীরে আহসানুল বয়ান সূরা আহযাব আয়াত ৩৭ এর তাফসীর, পৃষ্ঠা:- ৭৩৭
[১২] তাফসীর ইবনে কাসীর সূরা আহযাব আয়াত ৩৭ এর ব্যাখ্যা
[১৩] সহীহ বুখারী, (হামদিয়া লাইব্রেরি লিমিটেড) - শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা:- ৭৬-৭৭
[১৪] পুরো বই জোড়ে সমকামীতার সাপোর্ট,,,
সমকামিতা - অভিজিৎ রায়
লিঙ্ক:- https://uncovertrue.blogspot.com/2020/04/blog-post_74.html
0 Comments